তদন্ত প্রতিবেদক: সিলেটে পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তার কর্মসূচিতে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক দাগি আসামি। আর তাকে এই প্রটোকল দিচ্ছেন খোদ স্থানীয় এক বিএনপি নেতা! সিলেটের খাদিমনগরে পুলিশ কমিশনারের সাম্প্রতিক এক সফরে এমন চাঞ্চল্যকর ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী হয়েছে এলাকাবাসী, যা নিয়ে খোদ বিএনপিতেই দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ।
সিলেটের খাদিমনগরের সাহেবের বাজার এলাকায় পুলিশের ডগ স্কোয়াডের জন্য নির্ধারিত ভূমি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম। এই পরিদর্শনে তার সঙ্গে সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে হাজির হন সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক জাহেদ আহমদ। কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, জাহেদ আহমদের সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন মক্তার খাঁ নামের এক বিতর্কিত ব্যক্তি, যিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কট্টর সুবিধাভোগী এবং ‘বঙ্গবন্ধু শিশুকিশোর মেলা’-এর খাদিমনগর ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবে পরিচিত।
মক্তার খাঁর বিষয়টি কেবল রাজনৈতিক সুবিধাবাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তিনি একজন ফেরারি ও পরোয়ানাভুক্ত অপরাধী। পিসিপিআর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪৭ বছর বয়সী মোঃ মুক্তার খাঁর বিরুদ্ধে এসএমপি-এর এয়ারপোর্ট থানায় গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে একটি এফআইআর (নং-৬) দায়ের করা হয়েছে। পেনাল কোড ১৮৬০-এর ৩৭৯, ৩৮০, ৩৮১ এবং ৪০৮ ধারায় তার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও চার্জশিট রয়েছে। অথচ এমন এক ফেরারি আসামি পুলিশের শীর্ষ কর্তার সামনেই বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এক বিএনপি নেতার ছত্রছায়ায়!
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, যেখানে এসব দাগি অপরাধী ও পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর কথা, সেখানে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিএনপি নেতারাই উল্টো তাদের পুনর্বাসন করছেন এবং প্রশাসনের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন। দলের আদর্শ ও শৃঙ্খলাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আওয়ামী-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এমন পুনর্বাসন দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে।
সাধারণ নেতাকর্মীদের প্রশ্ন, পরোয়ানাভুক্ত এক আওয়ামী সুবিধাভোগীকে নিয়ে খোদ পুলিশ কমিশনারের প্রোগ্রামে গিয়ে এই বিএনপি নেতা আসলে কী বার্তা দিতে চাইছেন? ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য বিতর্কিত ব্যক্তিদের এভাবে প্রশ্রয় দেওয়া হলে দলের ত্যাগী কর্মীদের মাঝে বিদ্রোহ দেখা দিতে পারে বলে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এদিকে, এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক জাহেদ আহমদের সেলফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে এই রহস্যময় আঁতাতের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।